২০১৭ সালে ১২টি গোল্ডেন বল সাকিবের

sakibগত বছরের ক্রিকেট নিয়ে একটি বিশ্লেষণ-ভিত্তিক পর্যালোচনা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ক্রিকেট বিষয়ক জনপ্রিয় ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফো।
রোববার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে ২০১৭ সালের সেরা টেস্ট অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ক্যাটাগরিতে শীর্ষ স্থান দখল করেছেন বাংলাদেশে সাকিব আল হাসন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে ১০ উইকেট শিকারের পাশাপাশি ৮৯ রান করে এক হাজার ৮২৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনি শীর্ষস্থান দখল করেছেন।

অনন্ত নারায়ণের তৈরি করা এই পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সাকিবের পারফরম্যান্সের বিষয়ে বলা হয়েছে, মিরপুরে সাকিব যা করেছিল তা ভোলার মতো নয়। এটা সহজেই বলা যায়, গত বছরের ৩০ আগস্ট বাংলাদেশ সারাবিশ্বকে জানিয়েছিল যে তারা অভিজাত শ্রেণির দল। সাকিবের চমৎকার পারফরম্যান্সেই জন্যই কম স্কোরিং ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। তাই ২০১৭ সালের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের জন্য সাকিবকে অতিক্রম করার কোনো মানেই হয় না।
এই টেস্টের ১০ উইকেটের সুবাদে টেস্ট বোলিং-ম্যাচ ক্যাটাগরিতে তিন নম্বরে ঠাঁই পেয়েছেন সাকিব। এই বিষয়ে বলা হয়েছে, মিরপুর টেস্টে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সাকিবের ১০ উইকেটই বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় পেয়ে সাহায্য করেছিল।
এখানেই শেষ নয়। এই টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে সাকিবের করা ৪১তম ওভারের শেষ বল থেকে ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বল পর্যন্ত- এই ১২ বলকে গোল্ডেন বল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এই পর্যালোচনা প্রতিবেদনে।
সাকিবের ১২টি গোল্ডেন বল সম্পর্কে অনন্ত নারায়ণ বলেছেন, তাইজুল ইসলামের বলে জশ হেজলউড আউট হবার মধ্য দিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হয়। তবে এই জয়ের প্রকৃত ট্রিগার ছিল কয়েক ঘণ্টা আগের সাকিব আল হাসানের পারফরম্যান্স। দুই উইকেটে ১০৯ রান নিয়ে শুরু ১৫৮ পর্যন্ত নিয়ে যান ডেভিড ওয়ার্নার ও স্টিভেন স্মিথ। ওয়ার্নার ১০০ রান করেও ফেলেন। ১১২ রান করা ওয়ার্নারকে সাকিব আউট করেন ৪১তম ওভারের পঞ্চম বলে। এরপরের বল থেকে স্মিথের উইকেট নেয়া ৪৫তম ওভারের পঞ্চম বল পর্যন্ত সাকিবের করা ১২টি বলই ছিল ‘গোল্ডেন বল’। সাকিব ম্যাজিকের এই ১০ মিনিটই আমার বছরের পরবর্তী মুহূর্ত তৈরি করে দিয়েছিল।
গত বছরের ‘টেস্ট ম্যাচ অব দ্য ইয়ার’ ক্যাটাগরির দুই নম্বরে জায়গা করে নিয়েছে মিরপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচটি।
এই বিষয়ে পর্যলোচক বলেছেন, এটি ছিল ঐতিহাসিক একটি টেস্ট। এতে সবাই বুঝেছে যে বাংলাদেশ একটি বিশ্বমানের দল। মাত্র ২৬০ রান করেও প্রথম ইনিংসে তারা ৪৩ রানের লিড নিয়েছে। পরের ইনিংসে তারা ২২১ রান করে কিন্তু ২৬৫ রানের লক্ষ্যে পৌঁছানোই কঠিন হয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়ার জন্য। লক্ষ্য থেকে ২০ রান দূরে থাকতেই অলআউট হয়ে যায় তারা।
সাকিবের বিশ্বমানের অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তামিম ইকবাল ৭০ এর বেশি রানের দুটি ইনিংস খেলেন এবং পাঁচ উইকেট ও ৪৪ রান নিয়ে সহায়ক অলরাউন্ডারের ভূমিকা রেখেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
আরও পড়ুন