স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার, বাজে সিন্ধান্ত গুলোর একটি !

hiraশেষ হলো রক্তপাতের একটি অধ্যায়। দেশে প্রথমবারের মতো এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে একটু উচ্ছ্বাস থাকলেও বাস্তবে তা খুজে পাওয়া যায়নি এবং সর্বশেষ সমাপ্তি ঘটে প্রায় ১৩০ জনের মৃত্যু দিয়ে। পঙ্গুত্ব বরণ করেছে কয়েকশত এবং আহত হয়েছে কয়েক হাজার।

উৎকন্ঠা, জাল ভোট, কেন্দ্রদখল, অনিয়ম, সংঘর্ষ,ব্যালট পেপার ছিনতাই, সহিংসতা আর প্রাণহানির মধ্য দিয়ে শেষ হলো দেশের ইতিহাসের ব্যতিক্রমী ৯ম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনে দেশের ৪,৫৫৫ টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে এবার ৬ টি ধাপে মোট ৪,০৮৫ টি তে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এ নির্বাচনে কার কত সংখ্যক বেশী জিতল, কার কম জিতল সেটা বড় কথা নয়। বড় কথা হলো সার্বিকভাবে দেশ, জাতি, সমাজ কী পেল ,কী শিক্ষা নিল আর কিইবা উপকৃত হলো। সর্বোপরি আমরা বলতে পারি, প্রাণহানির চেয়েও এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাড়িঁয়েঁছে তৃণমূলে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে গণহারে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। অস্ত্র পৌঁেছ গেছে একেবারে গ্রামে গ্রামে মানুষের হাতে হাতে যা ইতোপূর্বে বাংলার মানূষ কখনও দেখেনি এমনদৃশ্য। ঘরে ঘরে এমনকি ভাইয়ে ভাইয়ে,বাবা সন্তানে ঝগড়ার জন্ম দিয়েছে। প্রতিটি ঘরে ঘরে পাড়া মহল্লায় হিংসা আর বিদ্বেসের এক নোংরা রাজনীতি বীজ বপন করে দিয়েছে এ স্থানীয় নির্বাচনে যা এক ভয়ংকর বাংলাদেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক থেকে শুরু করে, বিরোধী দল এমনকি সরকারের কেউ কেউ এ নির্বাচন ভালো ভাবে নেয় নি। তবে কার স্বার্থে এমন আত্মঘাতি ও নোংরা সিদ্ধান্ত। ভেবে দেখবেন কী ?
প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে ১৮ টি দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে। অনিয়ম-সহিংসতার দোষারোপ শুধু আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, অভিযোগ ছিল অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও। শুধু তাই নয় ভোট বর্জন ছিল রের্কড সংখ্যক যা কালের সাক্ষ্যি।

ইসি সচিব মো: সিরাজুল ইসলাম অনিয়ম-গোলযোগ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে আমরা কি দেখলাম বিরোধী দল ভোটের ময়দানে সক্রিয় না থাকলেও বেশীর ভাগ সংঘর্ষ ঘটেছে ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগ ও তাদের দলীয় বিদ্রোহী মাঝে। কখনও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ত্রিমূখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। আক্রান্ত হয়ে অনেক আহত হয়েছেন পুলিশও। এমনকি অনেক বৈধ অস্ত্রের গুলি অবৈধভাবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়াতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন্ত্রি এমপিরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী দিতে না পারায় স্থানীয় মšী¿, এমপি ও দলীয় নেতারা বিদ্রোহ উস্কে প্রথমবারের মতো দলভিত্তিক স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে ১৮ টি দল অংশ নিলেও মূল লড়াই হয়েছে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে। অনিয়ম-সহিংসতার দোষারোপ শুধু আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না, অভিযোগ ছিল অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যেও। শুধু তাই নয় ভোট বর্জন ছিল রের্কড সংখ্যক যা কালের সাক্ষ্যি।

ইসি সচিব মো: সিরাজুল ইসলাম অনিয়ম-গোলযোগ রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে আমরা কি দেখলাম বিরোধী দল ভোটের ময়দানে সক্রিয় না থাকলেও বেশীর ভাগ সংঘর্ষ ঘটেছে ক্ষমতাশীল আওয়ামীলীগ ও তাদের দলীয় বিদ্রোহী মাঝে। কখনও সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ত্রিমূখী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে পুলিশ। আক্রান্ত হয়ে অনেক আহত হয়েছেন পুলিশও। এমনকি অনেক বৈধ অস্ত্রের গুলি অবৈধভাবে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন হওয়াতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মন্ত্রি এমপিরা নিজেদের পছন্দের প্রার্থী দিতে না পারায় স্থানীয়  এমপি ও দলীয় নেতারা বিদ্রোহ উস্কে দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের সূত্রমতে অনিয়মের অভিযোগে এ নির্বাচনে জরিমানা আদায় হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকা। এতে বুঝা যায় রাজনৈতিক প্রতীক ব্যাবহারের ফলে প্রার্থীরা কতটা বেপরোয়া হয়ে উঠে। সবকিছু মিলিয়ে এ এক নতুন তিক্ত অভিজ্ঞতা স্থানীয় নির্বাচনে। শেষ পর্যন্ত জনপ্রিয় এ ভোটে বাড়ল শুধু সংঘাতই।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ সহিংসতা বন্ধে মানসিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান এবং কোন অনিয়মে ছাড় দেওয়া হবেনা ঘোষনা দেন, কিন্তু আমরা ও বিশ্বের মানুষ কি দেখলো ?
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে জনপ্রিয় হিসেবে পরিচিত এই নির্বাচনে রেকর্ড হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হওয়ার সংখ্যায়। প্রায় ২২২ জন। যা এর আগে এরশাদের শাসনামলে চেয়ারম্যান পদে সর্বোচ্চ ১০০ জন বিনা প্রতিদ্বন্দি¦তায় নির্বাচিত হওয়ার এবং সহিংসতায় ৮০ জনের প্রাণহানির তথ্য রয়েছে।

এখন আমাদের হিসেব নিকাশ করার সময় এসেছে, স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যাবহার কতটা কার্যকর, যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত এবং সে অনুযায়ী উদ্যোগ নেওয়া। তাহলে আগামী প্রজন্মকে সুন্দর একটি বাংলাদেশ উপহার দেয়া সম্ভব হবে। নাহয় আমরা ইতিহাসের আস্তাকুড়ে নিক্ষেপ হবো।

লেখক:লায়ন নূরুজ্জামান হীরা

সিনিয়র যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক গণতান্ত্রিক যুবদল,কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য

এলডিপি জাতীয় নির্বাহী কমিটি