সিএনজি চালকদের যা খাইয়া দিছে উবার-পাঠাও’

ubar pathaoইন্টারনেটে কি সব আইছে। যাত্রীরা সবাই মোবাইল টেপাটিপি করে বাইকে যায় আবার প্রাইভেটকারে টাকা দিয়ে যায়। আমাগো সামনে থেকে যাত্রী ছিনাইয়া নিয়ে যাচ্ছে। কিচ্ছু বলতেও পারছি না, সইতেও পারছি না।

আমাগো ট্রিপ খাইয়া দিছে এসব উবার-পাঠাও।’ এভাবেই অ্যাপভিত্তিক পরিবহনসেবা উবার-পাঠাও এর বিরুদ্ধে নিজের ক্ষোভ জানান সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক রুহুল আমিন।

মগবাজার, রামপুরা ও বনশ্রী এলাকায় আজ সোমবার সিএনজিচালিত অটোরিকশার কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উবার-পাঠাওয়ের কারণে আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন তারা। আগে আট-নয়টা ট্রিপ মারলেও এখন চার-পাঁচটার বেশি ট্রিপ পান না তারা। ফলে আয় কমেছে তাদের।

কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া বেশি নেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা মালিকদের দোষারোপ করেন। মিটারে না চলার বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

রামপুরা ইউলুপের নিচে দাঁড়ানো সিএনজি অটোরিকশা চালক গোলাম কবির বলেন, মামা কি কমু, মনডা খুব খারাপ। এক ঘণ্টা ধইরা দাঁড়ায় আছি। যাত্রী নাই। অফিস টাইম তবুও যাত্রী নাই। খ্যাপ কইম্মা গেছে। মোটরসাইকেলে, প্রাইভেটকারে যায় প্যাসেঞ্জার। যারা উঠে ঠ্যালায় পইড়া!

রেজাউল ইসলাম নামে অপর চালক বলছেন, লগে থাকেন, দেহেন যাত্রী কয়ডা আসে, আর উঠে কয়ডা। সব বাইকে যায় গা। এদিক সেদিক ঘুরতাছি। যাত্রী পাইতাছি না। এ্যামনে চলতে থাকলে বউ-বাচ্চা লইয়া গ্রামে যাওন লাগবো।

ঢাকা ও চট্টগ্রাম জেলা সিএনজি অটোরিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদ উবার-পাঠাওসহ অন্যান্য অ্যাপনির্ভর সেবা বন্ধের দাবিতে ২৭ নভেম্বর থেকে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তাদের এই কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানা আলোচনা। তাদের এই কর্মসূচির বিপরীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা বর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। সিএনজি অটোরিকশা মালিক-চালকদের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে অনেককে।

তারা বলছেন, অটোরিকশায় চলাচলকারীরা উবার-পাঠাও সেবা নেয়ার পর থেকে সিএনজি’কে বিদায় জানিয়েছেন। একদিকে দ্রুতগতিতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি। অন্যদিকে অটোরিকশার ভোগান্তি থেকে বেঁচে গেছি। অতিরিক্ত ভাড়াও দিতে হচ্ছে না।

মগবাজার থেকে প্রতিদিন গুলশানে অফিসে যান আরেফিন। এই রুটে সরাসরি কোনো বাস না থাকায় সিএনজিই ছিল ভরসা। কিন্তু এই সুযোগ নিয়ে অটোরিকশা চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া নেন বলে অভিযোগ তার।

তিনি বলেন, এতো দিন আমি সিএনজি অটোরিকশা চালকদের কাছে জিম্মি ছিলাম। নিরুপায় হয়েই বেশি ভাড়ায় চলেছি। এখন সময় বদলেছে। দেশ ডিজিটাল হয়েছে। উবার-পাঠাও এসেছে। এখন কম সময় ও অল্প ভাড়ায় দ্রুত গন্তব্যে যেতে পারছি। আমি কেন তাদের কাছে জিম্মি থাকবো?

উবার-পাঠাওকে সিএনজিচালকদের হাত থেকে যাত্রীদের মুক্তিদাতা হিসেবে উল্লেখ করে শামীম নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ব্যাংকে চাকরি করি। প্রতিদিন তাড়াতাড়ি বের হতে হয়। সুযোগ নিয়ে সিএনজিচালকরা বেশি ভাড়া চায়। এখন পাঠাওয়ে যাই। ভাড়া কম, ঝামেলাও নাই।

অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা চালুর কারণে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ট্রিপ কমেছে বলে উল্লেখ করে ঢাকা মহানগর অটোরিকশা মালিক সমিতির সভাপতি বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ট্রিপ কমলেও আপাতত ভাড়া কমাচ্ছি না। চালকদের জমাও কমাচ্ছি না।

তিনি বলেন, অবৈধ অটোরিকশার চলাচল বন্ধে আমরা একটি রিট করেছিলাম হাইকোর্টে। আগামী সপ্তাহে শুনানিতে পজিটিভ রায় পেলে এসব বন্ধ হবে।

ঢাকা জেলা অটোরিকশা-অটোটেম্পু চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক জানান, রাজধানীতে বাণিজ্যিক অটোরিকশা প্রায় ১৪ হাজার। চালক রয়েছে ত্রিশ হাজার। অন্য ব্যবসা দাঁড় করিয়ে তাদের ট্রিপ কমে যাওয়া মানে তাদের পেটে লাথি মারা।

এ ব্যাপারে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মো. মশিয়ার রহমান বলেন, মিটারে না যাওয়ার অনেক অভিযোগ আছে। যাত্রীদের চাহিদা অনুযায়ী নির্দিষ্ট দূরত্বে যাবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সুযোগ নিয়ে চালকরা যাত্রীদের কাছে গলা কাটা ভাড়া আদায় করেছে। এমন অভিযোগের প্রমাণ মেলায় অনেককে জরিমানা করা হয়েছে। তাতেও কমেনি। এখন যাত্রীরাই অটোরিকশায় কম উঠছে।

উল্লেখ্য, অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য বন্ধে দুই বছর আগে শ্রমিক-মালিকদের সম্মতিতে কিলোমিটার প্রতি ভাড়া ও দৈনিক জমার পরিমাণ পুনর্নির্ধারণ করে দেয় সরকার। ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করা হলেও এখনও মিটারে যেতে অস্বীকৃতি জানান অধিকাংশ চালক। আবার মিটারে গেলেও বাড়া বেশি দেয়ার আবদার করেন।