সব সেবা এক ছাদের নিচে

hospialসরকারি চিকিৎসাসেবাকে আধুনিক ও যুগান্তকারী করে তুলতে ঢাকায় প্রথমবারের মতো স্থাপিত হচ্ছে এক হাজার শয্যার মাল্টি ডিসিপ্লিনারি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। এই আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতালে একসঙ্গে জটিল সব রোগের চিকিৎসা ও রোগের পরীক্ষা করা যাবে। প্রথমবারের মতো ১৩ তলাবিশিষ্ট হাসপাতালের সবচেয়ে উপরের তলায় থাকছে হেলিপ্যাড।

এ ছাড়া হাসপাতালের গুমোট পরিবেশে পরিবর্তন আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে গোটা হাসপাতালে থাকছে সবুজ গাছের সমারোহ। শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) কেবিন ব্লকের পেছনে তিন দশমিক ৮২ একর জমিতে এই হাসপাতালটি তৈরি করা হচ্ছে। এরই মধ্যে হাসপাতাল নির্মাণে জড়িত কোরিয়ান কনসালট্যান্ট গ্রুপ এর মূল অবকাঠামোগত নকশার কাজ করছে। হাসপাতালটি নির্মিত হলে এটিই হবে দেশের প্রথম সেন্টার বেইজড সরকারি হাসপাতাল। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালটি নির্মাণে চার বছর লাগবে। এতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ১২০০ কোটি টাকা। যার মধ্যে এক হাজার কোটি টাকা কোরিয়া সরকার সহজশর্তে বাংলাদেশকে ঋণ দেবে।

৭০ কোটি টাকা সরকার বহন করবে। আর বাকি অর্থ হাসপাতালের জন্য যে জমি নির্ধারণ করা হয়েছে তার মূল্য। এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের ইকোনমিক রিলেশন ডিপার্টমেন্টের (ইআরডি) পরিচালনায় ঋণের প্রক্রিয়াসংক্রান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) এ ঋণ দিচ্ছে। এই হাসপাতালের পুরো প্রকল্পের কাজ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে শেষ হবে। আর কোরিয়া সরকার পুরো কাজের তদারকি করবে। কাজ শেষ হলে তা বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ১৩ তলা হাসপাতাল ভবনের ১১ তলা পর্যন্ত নির্মাণ প্রক্রিয়া কোরিয়া সরকার তদারকি করবে।

আর অবশিষ্ট দুই তলার তদারকি করবে বাংলাদেশ সরকার। আধুনিক এই হাসপাতালে মোট ১১টি সেন্টার থাকবে। যার মধ্যে থাকছে কার্ডিওভাসকুলার সেন্টার। যেখানে হূদরোগের চিকিৎসা করা হবে। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোবিলিয়ারি সেন্টারে লিভার ট্রান্সপ্লান্টসহ সব ধরনের লিভার রোগের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হবে। উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন সেন্টারে থাকবে মা ও শিশুর সব রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা। নেফ্রোলজি অ্যান্ড ইউরোলজি সেন্টারে কিডনি ও মূত্রসংক্রান্ত চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি সংযোজন করা হবে। এর সঙ্গে আধুনিক এই হাসপাতালে আরও থাকছে রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং সেন্টার, ২৪ ঘণ্টা অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমারজেন্সি মেডিকেল সেন্টার। থাকবে ল্যাবরেটরি সায়েন্স, প্যাথলজি, নার্সিংসহ বিভিন্ন বিভাগ। থাকবে বেশ কয়েকটি অত্যাধুনিক অপারেশন থিয়েটার এবং আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণা কেন্দ্র।

এ ছাড়া ১০০ বেডের আইসিইউ (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) থাকবে। যেগুলো ভাগ ভাগ করা থাকবে। যেমন মেডিকেল ও কার্ডিয়াক আইসিইউ ভাগ থাকবে। এ ছাড়া ডেন্টাল, ডারমাটোলজি, রিহ্যাব মেডিসিন, স্পাইন সার্জারি, জেনারেল সার্জারি বিভাগ থাকবে। বিএসএমএমইউর সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান ও নির্মাণাধীন হাসপাতালটির প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডা. জুলফিকার রহমান খান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, এই হাসপাতালে এক ছাদের নিচে রোগীরা বিএসএমএমইউর মতো খরচে বিশেষায়িত সব রোগের চিকিৎসা করাতে পারবেন। জানা যায়, হাসপাতালের প্রথম দিকে যারা কাজ করবেন তাদের সবাইকে কোরিয়ায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

মোট ১৪০ জনবলের মধ্যে ৮০ জন চিকিৎসক, ৩০ জন নার্স এবং অন্য ৩০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে এই প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। হাসপাতালের চিকিৎসক ও শিক্ষকদের অধিকাংশই হবেন বিএসএমএমইউর। হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক আরও জানান, এই হাসপাতালে অ্যাকসিডেন্ট অ্যান্ড ইমারজেন্সি রোগীদের জন্য ১০০ বেড রাখা হচ্ছে। আমাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে এক জায়গায় সব ধরনের সেবা পাওয়া যায় না। কিন্তু এই হাসপাতালে যখন একজন রোগী আসবেন তখন তিনি ‘কমপ্রিহেনসিভ’ চিকিৎসা পাবেন। একটি রোগী সংশ্লিষ্ট রোগের সব চিকিৎসককে এক ছাদের নিচে পাবেন। রোগীরা রোগের পরীক্ষা ও চিকিৎসা একই স্থান থেকে করাতে পারবেন।