শুভ জন্মদিন হুমায়ুন আহমেদ

humaiunবাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, চলচ্চিত্রকার, নাট্যকার ও গীতিকার হুমায়ূন আহমেদের আজ ৬৮তম জন্মদিন। সহজ ভাষায় লেখনির জাদুতে পাঠক হৃদয়ে নিজের আলাদা স্থান তৈুির করে নিয়েছেন। বলা হয়, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক তিনি।

হুমায়ূন আহমেদের জন্ম ১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর মামাবাড়ি নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে। পাঠক বিবেচনায় হুমায়ূন আহমেদ দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। উপন্যাসে নিজের প্রতিভার বিস্তার ঘটলেও তার শুরুটা ছিল কবিতা দিয়ে। এর পর নাটক, শিশুসাহিত্য, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী, চলচ্চিত্র পরিচালনা থেকে শিল্প-সাহিত্যের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তিনি রেখে গেছেন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর। আর তিনি সাহিত্যের যে ক্ষেত্রেই নিজের পদচিহ্ন এঁকেছেন, প্রতিটিতেই দেখা পেয়েছেন সাফল্যের। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের সাহিত্যে বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর জনকও বটে। ১৯৭২ সালে প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ প্রকাশের পর পরই তার খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে।

উপন্যাসে ও নাটকে তার সৃষ্ট চরিত্রগুলো বিশেষ করে ‘হিমু’, ‘মিসির আলী’, ‘শুভ্র’ তরুণ-তরুণীদের কাছে হয়ে ওঠে অনুকরণীয়। তার লেখা পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা!তিনিই তরুণ-তরুণীদের করেছেন বইমুখী। প্রতিবছর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে হামলে পড়ে তার ভক্ত-অনুরাগীরা।

হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাসের সংখ্যা দুই শতাধিক। রচনা ও পরিচালনা করেছেন বহু একক ও ধারবাহিক নাটক। পরিচালনা করেছেন চলচ্চিত্রও। তার সর্বশেষ চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’র জন্য তিনি লাভ করেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।

হুমায়ূন আহমেদের দীর্ঘ চার দশকের সাহিত্যজীবনে বহু পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে- একুশে পদক (১৯৯৪), বাংলা একাডেমী পুরস্কার (১৯৮১), হুমায়ূন কাদির স্মৃতি পুরস্কার (১৯৯০), লেখক শিবির পুরস্কার (১৯৭৩), মাইকেল মধুসূধন দত্ত পুরস্কার (১৯৮৭), জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (১৯৯৩ ও ১৯৯৪), বাচসাস পুরস্কার (১৯৮৮) ইত্যাদি। দেশের বাইরেও সম্মানিত হয়েছেন হুমায়ূন আহমেদ। জাপানের ‘এনএইচকে’ টেলিভিশন তাকে নিয়ে ‘হু ইস হু ইন এশিয়া’ শিরোনামে ১৫ মিনিটের একটি ডকুমেন্টারি প্রচার করে।

২০১২ সালের ১৯ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ১১টায় নিউ ইয়র্কের বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই নন্দিত কথা সাহিত্যিক।

২০১২ সালে নির্মিত ঘেঁটুপুত্র কমলা ছিলো হুমায়ূন আহমেদের পরিচালিত শেষ চলচ্চিত্র। হুমায়ূন আহমেদ তার সৃষ্টির মাধ্যমে পাঠক ও দর্শক মনে যে স্থান তৈরি করেছেন, তা অভিন্ন ও অপরিবর্তনীয়। তিনি আজও বেঁচে রয়েছেন তার লেখা ও তার সৃষ্ট চরিত্রগুলোর মধ্যে।

জন্মদিন উপলক্ষে নানা আয়োজন

জন্মদিন উপলক্ষে ১২ নভেম্বর রাত ১২টা ১ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদের বাসায় তার পরিবারের সদস্যরা কেক কেটে জন্মদিন উদযাপন করবেন।
এছাড়া নূহাশপল্লীতে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা এবং চ্যানেল আই প্রাঙ্গণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে নানা অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোথাও হবে মাসব্যাপী অনুষ্ঠানও।
সকাল ৬টায় কার্জন হল থেকে হিমু/রূপার একটি দল পায়ে হেঁটে নূহাশপল্লী উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। যাত্রা পথে তারা বিতরণ করবে ক্যান্সার সচেতনতামূলক লিফলেট।
গাজীপুর ‘টিম হিমু পরিবহণ’ সকালে নূহাশ পল্লীতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবে।
দিনব্যাপী চ্যানেল আই চেতনা চত্বরে অনুষ্ঠিত হবে ‘৫ম হিমু মেলা’। এবারের মেলার নামকরণ করা হয়েছে ‘ডিউ-চ্যানেল আই হিমু মেলা’ ১৬। কাল দুপুর আড়াইটায় হিমুপ্রেমিদের একটি দল হলুদ পাঞ্জাবী গায়ে চ্যানেল আই প্রাঙ্গণের এ মেলায় উপস্থিত হবে।
এ সময় মেলার উদ্বোধনী পর্বে অংশ নেবেন হুমায়ূন আহমেদের পরিবারের সদস্য মেহের আফরোজ শাওন ও দুই ছেলে এবং বিভিন্ন অঙ্গণের বিশিষ্টজনরা।
মেলার উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে পরিবেশিত হবে হুমায়ুন আহমেদের লেখা ও পছন্দের চলচ্চিত্র ও নাটকের গান। প্রবীন শিল্পীদের পরিবেশনার পাশাপাশি গানগুলো পরিবেশন করবেন চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ ও ক্ষুদে গানরাজের শিল্পীরা। আরো থাকবে নাচ, কবিতা আবৃত্তি স্মৃতিকথা। থাকবে হুমায়ুন আহমেদের বই, চলচ্চিত্র ও নাটকের ভিডিও সিডির ষ্টলসহ নানা আয়োজন। চ্যানেল আই ও রেডিও ভুমি পুরো মেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে। ‘হিমু মেলাতে একজন বিশেষ ব্যক্তিত্বকে পুরস্কার প্রদান করা হবে।
হুমায়ূন আহমেদের জন্মদিন উপলক্ষে চ্যানেল আই’তে সন্ধ্যা ৬টায় জামাল রেজার প্রযোজনায় হুমায়ূন আহমেদ’র কিছু কালজয়ী চরিত্র নিয়ে বিশেষ বিতর্ক অনুষ্ঠান ‘আমার মাঝেই বেঁচে থাকবেন হুমায়ূন আহমেদ’ প্রচারিত হবে। আরো থাকবে দিনব্যাপী টক শো, স্মৃতিচারণ ইত্যাদি।