যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি

obaidulআমাদের সবচেয়ে বড় স্বভাবগত দোষ হল আমরা খুব সহজেই অতীত ভুলে যাই সেটা যত তিক্ত বা সুখকরই হোকনা কেন। সেকারণেই হয়তোবা আমরা ভুলেছি যুদ্ধাপরাধীদের সকল অপকর্ম। আমরা ভুলেছি ঠিকই কিন্তু তারা তো রয়ে গেছে আগের মতন ভয়ানক বিষকাঁটা হয়ে। নিশ্চিত পরাজয় জেনে হিংস্র দানবেরা ভেঙ্গে দিতে চেয়েছে আমাদের মেরুদণ্ড। চেয়েছে প্রগতিশীল চেতনাকে ধ্বংস করতে। কিন্তু তা পারেনি ওরা।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে আমারা বাংলাদেশ পেয়েছি। কিন্তু এ দেশে চূড়ান্ত মুক্তির যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি। যতোদিন দেশে একজন যুদ্ধাপরাধী থাকবে, ততোদিন এ যুদ্ধ শেষ হবে না ।

একাত্তরের ১৪ই ডিসেম্বর আমরা হারিয়েছি আমাদের শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের তবু জাতির সূর্যসন্তানরা নিঃশেষিত নয় এখনো। অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে এই দেশ এখনো দাঁড়িয়ে আছে যাদের কল্যাণে তারাই আজ টার্গেট। মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শক্তি এখন সুসংগঠিত। ১৪ ডিসেম্বরের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে হটাৎই তৎপর হয়ে উঠেছে তারা। মানুষ তাদের ঘৃণাভরে প্রত্যাান করেছে।ক্ষমতায় আরোহন করতে ওরা বেছে নিয়েছে ধ্বংসাত্মক পথ। সাম্প্রদায়িকতার বিষবাস্পে বাতাস ভারী এখন। যুদ্ধাপরাধী ও তাদের রোপিত বিষের বীজ এখন অনেক পরিনত। এদের রুখতে হবে প্রবল হাতে এখনই। সময় এসেছে বিষকাঁটা উপড়ে ফেলবার। যুদ্ধ এখনো শেষ হয়নি ।

মুক্তিযোদ্ধারাও মরেনি,মরতে পারে না চলমান যুদ্ধে প্রত্যেকটি মুজিব আদর্শের সৈনিক প্রজন্মের মুক্তিযোদ্ধা।আমাদের প্রতিটি যুদ্ধে বিজয় সুনিশ্চিত করতে প্রস্তুত থাকতে হবে ।

স্বশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি মহান মু‍ক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদদের এবং বীরাঙ্গনা মা-বোনদের যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দেশ বাংলাদেশ।

যুদ্ধাপরাধী মুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি। যেখানে থাকবে না কোন বঞ্চনা, শোষণ, বৈষম্য,রাজনৈতিক অস্থিরতা,সাম্প্রদায়িকতা থাকবে শুধু সুখ-শান্তি সমৃদ্ধি আর ভালবাসা। আজকের বিজয়ের এই দিনে সেটাই হোক আমাদের দৃঢ় প্রত্যয়।

লেখক :  সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, তরুণ উদ্যোক্তা , সমাজ সেবক, মোঃ ওবায়দুল হক