মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে হাজারো শিশু

baby-sickদেশে জল নেই, খাবার নেই। দুর্ভিক্ষের ছবিটা যেন বেড়েই চলছে। মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দিন গুনছে প্রায় ৭৫ হাজার শিশু।

হাতে আর বেশি দিন নেই। সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। তিলে তিলে শেষ হতে শুরু করেছে দেশের ভবিষ্যৎ। দেশের মাটিতে মিলছে না জল। নেই খাবার। নেই শান্তিতে মাথা গোঁজার ঠাইটুকুও। যদি এমনটাই চলে তবে, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়বে নাইজেরিয়ার ৭৫,০০০ শিশু।

একটা সময় পশ্চিম আফ্রিকার এই দেশটি ছিল অন্যতম জনবহুল দেশ। কিন্তু গত ছয়-সাত বছরে ছবিটা সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। বোকো-হারামের উৎপাতে কার্যত শ্মশানে পরিণত হয়েছে নাইজেরিয়া। সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করতে গিয়ে নাইজেরিয়ার ভবিষ্যৎকেই অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে তারা। তাদের তান্ডবে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ২০ হাজারের বেশি মানুষ। উদ্বাস্তুর সংখ্যাটা প্রায় ২৬ লক্ষের কাছাকাছি। নাইজেরিয়া জুড়ে এখন শুধু দুর্ভিক্ষ।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে নাইজেরিয়ার যা অবস্থা, তাতে আগামী ২০১৭ সালের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪ লক্ষ মানুষের সাহায্যের প্রয়োজন। যার মধ্যে ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষের অবস্থা আরও খারাপ। দেশে জল নেই, খাবার নেই। দুর্ভিক্ষের ছবিটা যেন বেড়েই চলছে। মৃত্যুর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে দিন গুনছে প্রায় ৭৫ হাজার শিশু।

এই গোটা ছবিটাকে বদলাতে এবার মাঠে নেমেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। তবে বাধ সেধেছে অর্থ। এই সমস্যা সমাধানের জন্য যে পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন তা এই মুহূর্তে তাদের কাছে নেই। তাই আন্তর্জাতিক বন্ধু দেশগুলির কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে তারা।

বোরনোর রাজধানী মাইদিগুড়ি এই বোকো হারামের জন্মস্থান। সেখানেই ঠাঁই নিয়েছেন ২ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী। নাইজেরিয়ার একটি নিরাপত্তা ও নজরদারি সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই শিবিরগুলিতে খাদ্যের অভাবে দিনে অন্তত ১০ জন শরণার্থীর মৃত্যু হচ্ছে।

বোকো হারাম উচ্ছেদে নাইজেরিয়ান সেনা সাফল্য পেলেও সেভাবে রোখা যায়নি তাদের দৌরাত্ম্য। দেশের উত্তর পূর্বের বেশ কিছু জায়গায় এখনও যথেষ্ট সক্রিয় রয়েছে বোকো হারাম।

এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপুঞ্জের ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন অনেকেই। প্রথম থেকেই ‘বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’ সংস্থা নাইজেরিয়া জুড়ে দুর্ভিক্ষের তৃতীয় স্তরের সতর্কতা জারি করেছিল। তাঁদের দাবি, রাষ্ট্রপুঞ্জ সেই সময় জরুরি অবস্থা জারি করলে প্রতিবেশী দেশগুলির থেকে অনেক বেশি পরিমাণ অনুদান সংগ্রহ করা যেত।

অন্যদিকে, দুর্ভিক্ষ রুখতে নাইজেরিয়ান সরকারের ব্যর্থতায় আরও শক্তিশালী হয়েছে বোকো হারাম। অনেকেই অভিযোগ করছেন, দুর্নীতির কারণে শরণার্থী শিবিরগুলিতে অনেক সময়ই ত্রাণ পৌঁছাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে বের হতে নাইজেরিয়া কোন পথে এগোবে সে দিকেই তাকিয়ে রয়েছে নাইজেরিয়ার মানুষ।