মৃত্যুর আগে একবার হলেও ঘুরে আসুন, নইলে মিস করবেন

nordan light

মেরু অঞ্চলে পথ চলছেন। হঠাৎ মনে হলো, আকাশটা কেমন বদলে গেছে।

ক্ষণে ক্ষণে রঙের ছোটাছুটি মাথা ঢেকে দিচ্ছে যেন। সোনালি রোদের আকাশ, মেঘলা আকাশ অথবা রাতের কালো আকাশে তারার ঝলকানি, সূর্যোদয় বা সূর্যাস্তের লালাভ আভা— এমন সব অভিজ্ঞতাকে ছাপিয়ে যাবে নানা রঙের আকাশ।

এই অবিশ্বাস্য ঘটনা মানুষের চোখ, মনকে সারা জীবনের জন্য দেবে স্মরণীয় বিস্ময়! এর নাম অরোরা। অনেকে বলেন, মেরুজ্যোতি বা মেরুপ্রভা। অরোরা মেরু অঞ্চলের আকাশে বাহারি আলোকচ্ছটা। বায়ুমণ্ডলের থার্মোস্ফিয়ারে থাকা অক্সিজেন ও নাইট্রোজেন পরমাণুর সঙ্গে ম্যাগনেটোস্ফিয়ার থেকে আসা চার্জিত কণিকাসমূহের সংঘর্ষের ফলেই অরোরা তৈরি হয়। বিভিন্ন রঙের অরোরা সৃষ্টি হতে পারে। সবচেয়ে স্পষ্ট অরোরা দেখা যায় আলাস্কা, কানাডা এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার কিছু অঞ্চল, কানাডিয়ান সীমান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরসীমায়।

মাচুপিচু

পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক শহর।

আধুনিক সভ্যতার বাইরে ইতিহাসের নানা রহস্য বুকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা শহর এটি। মানুষকে বিমূঢ় করে দেবে মাচুপিচু। মানুষের কল্পনাকে ছাড়িয়ে যায় এটি। অনন্য ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে মূল্যবান নিদর্শন মাচুপিচু শহরটি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ২৪০০ মিটার। এটি পেরুর উরুবাম্বা উপত্যকার ওপর একটি পর্বত চূড়ায় অবস্থিত। মাচুপিচুই সম্ভবত ইনকা সভ্যতার সবচেয়ে পরিচিত নিদর্শন। কোনো কোনো ঐতিহাসিকের মতে, এটি এমন একটি উপনিবেশ, যা বিজিত অঞ্চলসমূহের অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবহূত হতো। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি একটি জেলখানা হিসেবে ভয়ঙ্কর অপরাধীদের রাখার জন্য নির্মিত হয়েছিল। কিন্তু দুজন ইংরেজ গবেষক জন রো ও রিচার্ড বার্গারসহ আরও অনেকের গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে মাচুপিচু কোনো প্রতিরক্ষামূলক আশ্রয়স্থল নয়, বরং এটি ইনকা সম্রাট পাচাকুতিকের একটি অবকাশযাপন কেন্দ্র ছিল। মাচুপিচু ঐতিহ্যবাহী ইনকা বাস্তুকলার এক অনুপম নিদর্শন। পালিশ করা পাথর নির্মিত এই শহরের প্রধান স্থাপনাগুলো হচ্ছে সূর্য স্তূপ, সূর্য মন্দির ও তিন জানালা ঘর ইত্যাদি।

আমাজন

এই সমুদ্র আর শহর-নগরের বাইরে যে গোটা আরেকটি দুনিয়া চোখের আড়ালে রয়ে গেছে আমাজন ঘুরে না এলে সেটা বিশ্বাস করতে কষ্ট হবেই। জীবনের পুরোটা দিয়ে দিলেও আমাজন দেখে শেষ করা যাবে না! আমাজন বন আমাজন নদীর অববাহিকায় অবস্থিত পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরক্ষীয় বন। এর আয়তন প্রায় সাড়ে পাঁচ মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার। আমাজন বন অত্যন্ত দুর্গম। প্রাচীনকালে অভিযাত্রীরা আমাজনে সোনা, রুপা এবং ধন-রত্নের খোঁজে প্রবেশ করত। এখনো সেটি অব্যাহত আছে। এই রহস্যঘেরা বনে যেন অফুরন্ত সম্পদ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ বনে এমন সব প্রাণী ও উদ্ভিদের মেলা বসে যেগুলো বাকি দুনিয়ার কোথাও নেই।

গালাপাগোস দ্বীপ

ইকুয়েডরের কাছেই আগ্নেয়শিলার এক দ্বীপ। গালাপাগোস দ্বীপ। পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর, বৈচিত্র্যময়, রহস্যময় এই দ্বীপকে অনেকে বলেন পৃথিবীর একমাত্র জীবন্ত জাদুঘর। বিখ্যাত প্রকৃতিবিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন এই দ্বীপে প্রায় তিন বছর অবস্থান করে “দ্বীপের বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেন, প্রাণীদের নিয়ে গবেষণা করে রচনা করেন দি অরিজিন অব স্পেসিস। এই দ্বীপের প্রাণীবৈচিত্র্য এতটাই ভিন্ন যে বিজ্ঞানীদের ধারণা হাজার বছর আগে তা ভূমিকম্পের কারণে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে যায়। এ অঞ্চলের আকাশ, বাতাস, সাগর, মাটি সবখানেই প্রকৃতির খামখেয়ালিপনার উদাহরণ স্পষ্ট। শুধু প্রাণীবৈচিত্র্যই নয়, এখানে প্রাপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির গাছের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই পৃথিবীর আর কোথাও পাওয়া যায় না।

হিমালয়

হিমালয়ের জন্ম প্রায় ৪ কোটি বছর আগে। ভূমিকম্প, জলবায়ুর পরিবর্তন ইত্যাদি নানা কারণে তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশ এশিয়ার প্রচণ্ড ধাক্কায় ভূখণ্ডের সঙ্গে জোড়া লেগে যায়। জোড়া লাগা স্থানগুলো প্রচণ্ড সংঘর্ষের কারণে উঁচু হয়ে যায়। উঁচু হয়ে যাওয়া এই বিরাট ভূমিই কালের স্রোতে হিমালয় পর্বতমালায় পরিণত হয়েছে। হিমালয় কোনো একটি পর্বত নয়— অনেকগুলো পর্বতের মালা। সবচেয়ে উঁচু ও সুবিখ্যাত পর্বতের নাম মাউন্ট এভারেস্ট। এর উচ্চতা ৮ হাজার ৮৪৮ মি.। হিমালয় পর্বত পাকিস্তানের গিলগিটে সিন্ধু নদী থেকে শুরু করে ভারত, তিব্বত, নেপাল, পূর্ব ভারত ও ভুটান হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব তিব্বতে ব্রহ্মপুত্র নদের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাঁক পর্যন্ত বিপুল স্থলভাগজুড়ে রয়েছে।

গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন

পৃথিবীকে নতুন করে দেখতে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন দেখতে হবে। এ জন্য যেতে হবে যুক্তরাষ্ট্র। কলোরাডো নদীর কথা বললে অনেকেই চিনে থাকবেন। সেখান থেকেই এক সময় বয়ে যেত প্রবল স্রোতের এই নদী। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন গিরিখাত দেখতে এখানে ছুটে যান বহু মানুষ। এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন প্রায় ৪৪৬ কিলোমিটার লম্বা। আর কিছু কিছু জায়গায় এই গিরিখাত প্রায় ১৮ মাইল বা ২৯ কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এই গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের গভীরতা প্রায় ৬ হাজার ফুট! এই গিরিখাত কোনো কোনো জায়গায় ১.৬ কি.মি. গভীর আবার ২৯ কি.মি. প্রশস্ত। গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন পৃথিবীর অন্যতম মূল্যবান সম্পদ।

নীল তিমি

সমুদ্রের বিস্ময় নীল তিমি। পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রাণী নীল তিমিকে একবার চোখে দেখা জীবনের সেরা অনুভূতি হয়ে থাকবে। একটি নীল তিমির দৈর্ঘ্য প্রায় ৮২ থেকে ১০৫ ফুট হয়। এর ওজন ২০০ টন পর্যন্ত হতে পারে। একটি নীল তিমির ওজন প্রায় দুই হাজার ৬৬৭ জন মানুষের সমান। নীল তিমির সবচেয়ে পছন্দের খাবার ‘ক্রিল’। এগুলো চিংড়ির মতো ছোট এক ধরনের মাছ। একটি তিমির প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন টনের চেয়েও বেশি খাবার প্রয়োজন হয়। হিসাব করলে তিমি প্রতিদিন চার কোটি ক্রিল মাছ খায়। নীল তিমিকে সমুদ্রের মহারাজা বলা হয়। সে স্বাধীনভাবে সাঁতরে বেড়ায়। কেউ নীল তিমির কাছে ভেড়ার সাহস করে না। আজকাল নীল তিমি দেখা ভাগ্যের ব্যাপার হয়ে গেছে। কপাল ভালো থাকলে গহিন সমুদ্রে ক্ষণিকের জন্য তাদের ভেসে উঠতে দেখা যায়। বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র ৬ থেকে ১২ হাজার নীল তিমি আছে।