বিশ্বের একমাত্র ব্লু-টুথ ব্রিজ তাও আবার বাংলাদেশে

bridgeঅ্যাপ্রোচ সড়ক না থাকায় ব্যবহার করা যাচ্ছে না নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি সেতু। সম্প্রতি বাংলা ট্রিবিউন ডটকমের এক রিপোর্টে জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কায়েতপাড়া, উল্লাব, মুসড়ি এবং দক্ষিণ মাসাবো এলাকায় ছোট ছোট খালের ওপর ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে সেতু নির্মাণ করা হয়। কিন্তু গত দুই বছরেও অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণ করা হয়নি এবং সেতুগুলো কোনো কাজে আসছে না।

তবে এইসব সেতুর মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে কায়েতপাড়ার মুসড়ি খালের এই সেতুটি। যেখানে সেতু নির্মাণ করা হয়েছে সেখানে কোনো রাস্তা নেই কিন্তু তার পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ হয়েছে অনেক আগেই। রাস্তার বদলে খালের ওপর কেন সেতু নির্মাণ করা হয়েছে সেটি এলাকাবাসীরও বোধগম্য নয়। তবে সেতুটির স্থাপত্যশৈলী, প্রয়োজনীয়তা, আর ভবিষ্যৎ গুরুত্ত্ব আমাকে প্রচন্ড মুগ্ধ করেছে। কেন মুগ্ধ করেছে সেটার কারণগুলো বলছি–

১. প্রতিবছর দেশে বন্যা হয়, সম্ভবত বন্যার কথা মাথায় রেখে সেতুটি রাস্তার ৮/১০ ফুট উঁচুতে বানানো হয়েছে। এই ধারণাকে বলে ‘সাসটেইনেবল টেকনোলজি’ বা টেকসই প্রযুক্তি।

২. আমি আমেরিকার নিউজার্সি, মন্টানা, নর্থ ক্যারোলিনা স্টেটের কিছু দারুন ব্রিজ দেখেছি শুধু মাত্র প্রাণীদের পারাপারের জন্য (ওয়াইল্ড লাইফ ক্রসিং ব্রিজ)। এই ব্রিজটিও ওয়াইল্ড লাইফের অন্তর্ভূক্ত পাখিদের কথা মাথায় রেখে বানানো হয়েছে হয়তো।

৩. ব্লু-টুথ টেকনোলজি খুব পপুলার এখন। কোনো মাধ্যম ছাড়া আদান-প্রদান, যোগাযোগ। ব্রিজটিও ব্লু-টুথ টেকনোলজির একটি পার্ট। রাস্তা বা কোনো কানেকশন ছাড়া ব্রিজটি যানবাহনের সাথে সংযোগ করবে। এই ধারণাকে বলে ‘ফিউটার টেকনোলজি’। জাপানের আগেই আমরা বানিয়ে ফেলেছি ব্লু-টুথ ব্রিজ।

৪. মাছ ধরা মানুষের বিশাল শখ। উন্নত বিশ্বে জলাশয়ের পাশে মাছ ধরার জন্য ফিশিং শেড বানানো হয়। সম্ভবত ব্রিজটা খালের পাশে ফিশিং শেডের কথা মাথায় রেখেই বানানো হয়েছে।

৫. ব্রিজটি আসলে ব্রিজ নয়। এটি আসলে নাট্যমঞ্চ/ বক্তৃতামঞ্চ/ মুক্তমঞ্চ। ব্রিজে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান হবে; আর নিচে দাঁড়িয়ে মানুষ উপভোগ করবে।

৬. বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। বৃষ্টি আর গরমের দেশ। বৃষ্টি আর তীব্রদাবদাহে মানুষ যাতে মানুষ ব্রিজের নিচে আশ্রয় নিতে পারে সেকথা ভেবেই এটি বানানো হয়েছে।

৭. ওয়াচ টাওয়ার ইদানিং খুব জনপ্রিয়। সম্ভবত সেই কথা মাথায় রেখে ব্রিজটি উপরে বানানো হয়েছে। যাতে করে এর উপর দাঁড়িয়ে পুরো এলাকাটি ভালোভাবে দেখা যায়।

৮. ব্রিজটি রাস্তা আর খালের মাঝখানে। রাস্তা দিয়ে স্থলচর; খাল দিয়ে চলবে জলচর প্রাণী। কিন্তু উভচর প্রাণীরা! তারা কী করবে? কোন রাষ্ট্র এদের কথা না ভাবলেও বাংলাদেশ ভেবেছে। তাই তাদের জন্য জল আর স্থলের মাঝখানে উভচর এই ব্রিজ।

৯. আমার বন্ধু নিটোল চন্দ্র দাসের মতে এই ব্রিজ বানানোর কাহিনি আসলে ভিন্ন। পুরো পৃথিবীল জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিং,আইস মেল্টিং, টেকটোনিক প্লেটের নাড়াচাড়ায় অদূর ভবিষ্যতে খালটি গতিপথ পরিবর্তন হয়ে যাবে। খালটির নির্মাতারা নানাবিধ গাণিতিক, জ্যামিতিক গবেষনা করে এটা বুঝতে পেরেছেন তাই আগেই এই অ্যাঙ্গেলে ব্রিজটা বানিয়ে রেখেছে। ইটস আ ওয়ান্ডারফুল এক্সাম্পল অব এন্টিসিপেশান।

১০. নির্ভানা পরিজাত জানিয়েছে, বাংলার বিখ্যাত প্রবাদ জলে কুমির এবং ডাঙায় বাঘ থাকলেও যেন এই এলাকার মানুষ জীবন বাঁচাতে পারে তাই এটিকে এভাবে বানানো হয়েছে। কুমির এবং বাঘ দুই পক্ষরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা যাবে এই ব্রিজে উঠলে।

১১. তবে আমার বন্ধু কনক কানিজের একটাই অভিযোগ এই ব্রিজ নিয়ে, ব্রিজের উপর সিগন্যাল নাই কেন? এ কেমন বিচার!

…তবে আর যাই হোক না কেন এরকম হাইটেক, মাল্টিপারপাস আর পরিবেশবান্ধব ব্রিজ পৃথিবীর আর কোনদেশে পাওয়া যাবে কিনা সন্দেহ। দ্রুতই এই ব্রিজটিকে শিক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্বে সারা বিশ্বের লোকজনের সামনে ফাঁস করা হোক।

ইহা একটি রম্য ব্লগ
লেখকঃ লিটন চন্দ্র ভৌমিক
লেখাটি ইয়ার্কি ব্লগ থেকে নেয়া হয়েছে