বাংলাদেশী ডাক্তাররা যে বিশ্বরেকর্ড গড়লেন

doctorবাংলাদেশী ডাক্তাররা এবার যে রেকর্ডের সৃষ্টি করলেন তা জানলে আপনিও চমকে উঠবেন। হ্যাঁ রেকর্ড হলো, বাংলাদেশের চিকিৎসকরা গড়ে একজন রোগীর পেছনে মাত্র ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন।

৬৭টি দেশের ওপর পরিচালিত গবেষণার ভিত্তিতে যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল বলছে, বিশ্বে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা রোগীপ্রতি সবচেয়ে কম সময় ব্যয় করেন।

ভারত ও পাকিস্তানের চিকিৎসকরা রোগীর পেছনে যথাক্রমে ২ দশমিক ৩ মিনিট এবং ১ দশমিক ৩ মিনিট সময় দেন। রোগীর পেছনে চিকিৎসকদের কম সময় ব্যয়ে বাংলাদেশি চিকিৎসকরা বিশ্বরেকর্ডের অধিকারী।

তবে এ রেকর্ড গৌরবের নয়, কলঙ্কের। বাংলাদেশের চিকিৎসকদের সিংহভাগ যে রোগী দেখার ক্ষেত্রে মনোযোগী নন, তা স্পষ্ট হয়ে পড়েছে এই রেকর্ডের মাধ্যমে। কম সময়ে বেশি রোগী দেখে দুই হাতে পকেট ভরার অভ্যাস দেশের চিকিৎসকদের ওপর রোগী এবং তাদের অভিভাবকদের আস্থায় সংকট সৃষ্টি করছে।

ফলে যাদের সামর্থ্য আছে তারা চিকিৎসার জন্য ছুটে যাচ্ছেন সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। চিকিৎসা খরচ কম হওয়া এবং চিকিৎসকদের মানবিক আচরণে প্রলুব্ধ হয়ে নিম্নবিত্তের মানুষও ভারতমুখী হচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, রোগী দেখার সময়ের সঙ্গে সেবার মানের সম্পর্ক জড়িত।

ওষুধের যৌক্তিক ব্যবহারবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল নেটওয়ার্ক ফর দ্য র্যাশনাল ইউজ অব ড্রাগস রোগী দেখার সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। এদের যুক্তি হচ্ছে, ওষুধের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে রোগীর বেশি সময় দরকার চিকিৎসকের কাছ থেকে।

কিন্তু একজন রোগীর জন্য একজন চিকিৎসক কত সময় ব্যয় করবেন, তা কোনো দেশে নির্দিষ্ট করে দেওয়া নেই। মিসরে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রোগীকে কমপক্ষে ৩০ মিনিট সময় দেওয়ার একটা সুপারিশ আছে। সাধারণভাবে বলা হয়, রোগীকে বেশি সময় দিলে ফল ভালো হয়।

মানুষ রোগমুক্তির জন্য চিকিৎসকের কাছে যায়। কিন্তু চিকিৎসকরা যদি রোগের প্রকৃতি এবং আনুষঙ্গিক তথ্য না বুঝেই ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন, তবে সে চিকিৎসার ফলাফল কী হতে পারে তা সহজে অনুমেয়।

বাংলাদেশে চিকিৎসকদের সম্পর্কে রোগীদের মধ্যে যে আস্থার সংকট তার পেছনে রোগীদের সময় না দেওয়া অন্যতম দায়ী। নিজেদের সুনামের স্বার্থে এই সংকট উত্তরণে চিকিৎসকদের মনোযোগী হতে হবে। তাদের প্রতি আমাদের আবেদন, দোহাই রোগীদের প্রতি নজর দিন।