পরকালে মুমিন বান্দার পুরষ্কার

islamমানুষের জন্য সত্য ও পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা নিয়ে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পৃথিবীতে আগমন করেছেন। সত্য ও পরিপূর্ণ এ জীবন ব্যবস্থা হলো আল-কুরআনুল কারিম এবং বিশ্বনবির আদর্শ। যারা কুরআনের বিধান এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ বাস্তবায়নে একনিষ্ঠ ও আন্তরিক; তারাই আল্লাহ তাআলার দরবারে মুমিন হিসেবে পরিগণিত। মুমিন বান্দারাই কুরআন অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করবে এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের ওপর আমল করবে; তাঁর দেখানো পথে এবং মতের ভিত্তিতে দুনিয়ার জীবন পরিচালনা করবে। এ কারণেই তারা দুনিয়া ও পরকালে সফলতা লাভ করবে। কুরআন ও হাদিসের অসংখ্য জায়গায় মুমিন বান্দার পরকালীন জীবনের সুখ ও শান্তির বিষদ বর্ণনা রয়েছে। পরকালের কঠিন সময়ে ব্যাপারে তাঁদেরকে অভয় দেয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে আমার বান্দাগণ আজকের দিনে তোমাদের কোনো ভয় নেই, তোমরা চিন্তিতও হবে না। যারা আমার আয়াতসমূহে (কুরআনের ওপর) বিশ্বাস স্থাপন করেছিলে এবং তোমরা আজ্ঞাবহ ছিলে (আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি)। তোমরা এবং তোমাদের বিবিগণ সানন্দে জান্নাতের প্রবেশ কর। (সুরা যুখরুফ : আয়াত ৬৮-৭০) এ আয়াতে আল্লাহ তাআলা কুরআনের বিধানের বাস্তবায়ন এবং রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করার প্রতি নির্দেশ প্রদান করেছেন।

এবং যারা এ আয়াতের নির্দেশ যথাযথ বাস্তবায়ন করবে তারাই হবে সফলকাম। চিরস্থায়ী জান্নাতের অধিবাসীও হবে তারা। জান্নাতের শান্তি এবং নিয়ামত শুধামাত্র আল্লাহ আল্লাহর নির্দেশ পালনকারীদের জন্য। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতেই সে জান্নাতের সুসংবাদ প্রদান করেন। যাতে মানুষ আল্লাহর বিধান পালনে গাফলতি না করে। হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু একদিন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দরবারে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জান্নাতের বিবরণ দান করুন।

তখনি তিনি বর্ণনা করেন, জান্নাতের একটি ইট স্বর্ণের, আর একটি রৌপ্যের, কংকর হবে মুক্তার, জাফরানের মাটি, কস্তুরির গারা। যে জান্নাতে প্রবেশ করবে, সে সর্বদা আনন্দ-উল্লাসে মাতোয়ারা থাকবে। বেহেশতে কেউ চিন্তিত হবে না, কোনো দিনও মৃত্য আসবে না। পোশাক-পরিচ্ছদ পুরনো হবে না, কোনো দিন বৃদ্ধকাল আসবে না। জান্নাতে দুধ, পানি, মধুর নহরসমূহ প্রবাহিত থাকবে। বেহেশতবাসীগণ যা চাইবে সঙ্গে সঙ্গে তা পাবে।’