জেনে নিন ডায়াবেটিস আসলে কি?

diabatisডায়াবেটিস এখন আর কোনো অপরিচিত রোগের নাম নয়। রক্তে শর্করা বা সুগারের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, ঘন ঘন প্রস্রাব হচ্ছে, ওজন কমে যাচ্ছে।

আর যদি পরিবারের কারও ডায়াবেটিস থেকে থাকে তবে যে কেউ বলবে এটা ডায়াবেটিসের লক্ষণ। ২০১১ সালের এক সমীক্ষায় দেখা যায়, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি ডায়াবেটিস রোগীর (৯ কোটি; ৯%) বসবাস চীনে, তারপর ভারত (৬ কোটি ১৩ লাখ; ৮%) এবং বাংলাদেশ (৮৪ লাখ; ১০% )।

অনেকেই ডায়াবেটিসের প্রাদুর্ভাব ও এর জটিলতা সম্পর্কে সচেতন নন। ডায়াবেটিস কি? ইনসুলিন হলো এক ধরনের হরমোন যা অগ্ন্যাশয় বা পেনক্রিয়াজ নামক গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়।

খাওয়ার পর খাদ্য নালি থেকে আত্তিকরণের মাধ্যমে গ্লুকোজ রক্তে প্রবেশ করে এবং দেহের কোনায় কোনায় পৌঁছে দেহের বিভিন্ন কোষের অভ্যন্তরে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকে। এরা ইনসুলিনের সাহায্য ব্যতিরেকে কোষের ভিতর প্রবেশ করতে পারে না। ইনসুলিন যখন সুগারকে কোষের অভ্যন্তরে পৌঁছে দেয় তখন সুগার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহূত হয় এবং প্রয়োজনীয় শক্তি বা ক্যালরি সরবরাহ করে থাকে।

কোনো কারণে যদি অগ্ন্যাশয় প্রয়োজনীয় পরিমাণে ইনসুলিন সিঃসৃত করতে ব্যর্থ হয় অথবা নিঃসৃত ইনসুলিন যদি ত্রুটিপূর্ণ হয় অথবা নিঃসৃত ইনসুলিনের তুলনায় শরীরের ওজন বেশি অর্থাৎ ইনসুলিনের আপেক্ষিক ঘাটতি দেখা দেয় তবে রক্তের সুগার কোষে প্রবেশে বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে রক্তে সুগারের পরিমাণ বেড়ে যায়।

একটি নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রান্ত হলে সুগার প্রস্রাবের সঙ্গে বেরিয়ে যায় ফলে প্রস্রাবেও সুগারের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। এ অবস্থাকে বলা হয় ডায়াবেটিস। এ রোগ অনেক রোগ থেকেই একটু আলাদা।

তাই ডায়াবেটিস নিয়ে অবহেলা না করে আরও সচেতনতা বাড়াতে হবে। মনে রাখতে হবে প্রতিকার নয়, প্রতিরোধ উত্তম।

ডা. মো. ছায়েদুল হক জনস্বাস্থ্যবিষয়ক লেখক