জেনে নিন আনিসুল হকের কর্মময় জীবন সম্পর্কে

anisulনা ফেরার দেশে চলে গেলেন (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার ১০ টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

মেয়র আনিসুল হকের জন্ম চট্টগ্রাম বিভাগের নোয়াখালী জেলায় ১৯৫২ সালে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। আনিসুল হকের স্ত্রী রুবানা হক। তাদের তিন সন্তান রয়েছে।

১৯৮০ থেকে ১৯৯০’র দশকে টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে আনিসুল হক তার কর্মজীবন শুরু করেন। উপস্থাপক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিতি লাভ করেন। শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মুখোমুখি একটি অনুষ্ঠান উপস্থাপনও করেছিলেন তিনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের পূর্বে বিটিভিতে সেই অনুষ্ঠানটি প্রচারিত হয়।

এরপর ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালে বিজিএমইএ’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০০৮ সালে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি।

২০১৫ সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আনিসুল হক আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র পদের জন্য মনোনয়ন লাভ করে বিজয়ী হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মেয়র পদে বহাল ছিলেন।

মেয়র আনিসুল হকের মরদেহ দেশে আসবে আগামী শনিবার। বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে শনিবার সকাল ১১ টায় তার মরদেহ ঢাকায় আনা হবে।

আনিসুল হক বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সাড়ে দশটার দিকে লন্ডনের একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি সেখানে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

গত ২৯শে জুলাই ব্যক্তিগত সফরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে যান আনিসুল হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৩ই আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তার মস্তিস্কের প্রদাহজনিত রোগ সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা।

এরপর তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল। ধীরে ধীরে অবস্থার উন্নতি ঘটলে তাকে গত ৩১শে অক্টোবর আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। গত মঙ্গলবার অবস্থার অবনতি হলে তাকে রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার থেকে পূনরায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।