চিকিৎসক সুরক্ষা আইন পাস শিগগিরই

nasimরোগীর মৃত্যুরর পর চিকিৎসকদের আক্রান্ত হওয়ার নানা ঘটনার প্রেক্ষাপটে তাদের সুরক্ষায় আইন ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে’ পাস হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “চিকিৎসকদের সুরক্ষা আইনের কথা বলা হয়েছে। আমরা আইনের খসড়া ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে আমরা সেটা মন্ত্রিসভায় পাঠাব।

অল্প সময়ে আপনারা আইনটা পাবেন।” দশম সার্ক ইএনটি কংগ্রেসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্তের বক্তব্যের সূত্র ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আছে। প্রাণ গোপাল বলেন, “চিকিৎসক সুরক্ষা আইন করার কথা আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি। সেটা পাস হলে চিকিৎসকরা স্বাধীনভাবে তাদের সেবা দিতে পারবেন। স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়বে এবং সাধারণ মানুষ অধিক মাত্রায় সেবা পাবেন।” ‘রোগী এবং স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন, ২০১৬’ নামে খসড়া আইন প্রণয়ন করেছে সরকার, যেটাকে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বলছেন চিকিৎসকরা।

এর আগে ২০১৪ সালে ‘স্বাস্থ্য সেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন’ ও ‘রোগী সুরক্ষা আইন’ শিরোনামের দুটি পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করেছিল সরকার। অবহেলার জন্য চিকিৎসককে ফৌজদারি অপরাধে দণ্ডের বিধানসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিকিৎসকদের বিরোধিতায় তা আর পাস হয়নি। অন্যদিকে চিকিৎসকদের পাশাপাশি রোগীর সুরক্ষার আইন একই সঙ্গে করে উভয়ের স্বার্থ সুরক্ষার দাবি রয়েছে স্বাস্থ্য অধিকারকর্মীদের। এই প্রেক্ষাপটে চলতি বছরে ‘রোগী এবং স্বাস্থ্য সেবাদানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন, ২০১৬’ শিরোনামে আইনের খসড়া তৈরি করেছে সরকার, যা দ্রুত পাস হওয়ার কথা বলেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী নাসিম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছাড়া গড়ে ওঠা বেসরকারি ক্লিনিকগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চিকিৎসকদের সহায়তাও তিনি। ক্লিনিকগুলোতে সাধারণ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নাসিম বলেন, “অনেক ভুয়া ক্লিনিক আছে, কোনো কিছুই তাদের নাই। একটা অফিস খুলে তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টার করে বসেছে। সেখানে কী যে চিকিৎসা হচ্ছে আপনারা নিজেরাও বুঝবেন না। আমি অনেক জায়গায় বন্ধ করে দিয়েছি। “এক্ষেত্রে শ্রেণিস্বার্থ দেখলে চলবে না। এসব ক্লিনিকে কোনো সেবা হয় না, ডাক্তারি হয় না, কিছু কসাই আছে এখানে। এদের বিরুদ্ধে আমি ব্যবস্থা নেব। নিতে চাইলে আপনাদেরকে সহায়তা করতে হবে।”

আইন না মেনে গড়ে ওঠা বেসরকারি মেডিকেল কলেজের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার কথা পুনরায় বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। ’সোসাইটি অফ ওটোলারিনজোলজিস্ট অ্যান্ড হেড-নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ’ চারদিনব্যাপী সার্ক ইএনটি কংগ্রেসের আয়োজন করে। সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক কামরুল হাসান তরফদারের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যদের মধ্যে সোসাইটির সহসভাপতি অধ্যাপক আবু ইউসুফ ফকির, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক এএইচএম জহুরুল হক এবং কংগ্রেসের অভ্যর্থনা কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুর রউফ সরদার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে সার্ক ইএনটি সোসাইটির সভাপতি ডা. ডি এস সি পেরেরার বক্তব্য পড়ে শোনান শ্রীলঙ্কা থেকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ডা. রণজিৎ আবেয়েবিক্রমা।