এবার পিএসসি’র ফল ফাঁস!

psc resultআনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করার আগেই ফাঁস হয়েছে পিএসসি’র ফল। গত রাতে একটি অ্যাপস-এ এই ফল ফাঁস হয়। সন্ধ্যার পর থেকেই এ অ্যাপসের মাধ্যমে ফল পাওয়া যায়। বেশ কয়েকজন অভিভাবক ফোন করে ফল পাওয়ার বিষয়টি জানান।

পরে এই প্রতিবেদকও ওই অ্যাপসে ফল পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এদিকে চলতি বছরের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) এবং প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী (পিএসসি) ফল আজ প্রকাশ করার কথা।

আজ শিক্ষা বোর্ডগুলোর চেয়ারম্যান এবং শিক্ষা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জেএসসি ও জেডিসি’র ফলাফলের কপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করবেন। একই দিনে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান।

ফলাফল প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের কয়েকটি স্কুলের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সও করতে পারেন। পরে দুপুর দুইটায় সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফল নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপর স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদে বার্তার মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন।

অন্যদিকে দুপুর ১টায় সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল তুলে ধরবেন। গণশিক্ষা মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পর দুপুর ২টায় সকল জেলা ও উপজেলায় স্ব স্ব পরীক্ষা পরীক্ষা পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে ফল প্রকাশ করবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।

নভেম্বরের শুরুতে দেশব্যাপী দুই হাজার ৮৩৪টি পরীক্ষা কেন্দ্রে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২৮ হাজার ৬২৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৪ লাখ ৬৮ হাজার ৮২০ জন পরীক্ষার্থী এ দু’টি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এছাড়া বাংলাদেশের বাইরে সৌদি আরব, লিবিয়া, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), বাহরাইন ও ওমানের মোট নয়টি কেন্দ্রে ৬৫৯ জন শিক্ষার্থী এ বছরের জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষায় অংশে নিয়েছে।

এবার থেকে জেএসসির পরীক্ষার্থীদের শারীরিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা এবং চারু ও কারুকলা বিষয়ের পরীক্ষা হয়নি। তবে এই বিষয়গুলোর ওপর শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন করে স্ব স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের নম্বর পাঠায় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে। এছাড়া নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বহু নির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে ৩০ নম্বর এবং সৃজনশীল অংশে ৭০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে। অনিয়মিত পরীক্ষার্থীরা বহুনির্বাচনী (এমসিকিউ) অংশে ৪০ নম্বর এবং সৃজনশীল অংশে ৬০ নম্বরের পরীক্ষা দিয়েছে।

অপরদিকে, গত ১৯শে নভেম্বর থেকে ২৬ই নভেম্বর প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দেশের সাত হাজার ২৬৭টি এবং বিদেশের ১২টি কেন্দ্রে মোট ৩০ লাখ ৯৬ হাজার ৭৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এবার দুই হাজার প্রাথমিকে ৯৫৩ জন এবং ইবতেদায়ীতে ৩৭৯ জন ‘বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন’ পরীক্ষার্থী অংশ নেয় । এই শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় দেয়া হয়। সূত্র: মানবজমিন