আবারো পেঁয়াজের সেঞ্চুরি!

onionকয়েক মাস টানা বাড়ার পর গেলো সপ্তাহে একটু থমথমে হলেও আবার সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে পেঁয়াজের বাজার। রাজধানীর বিভিন্ন খোলা বাজারে পেঁয়াজ কেজি দরে ৮৫ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে কোথাও কোথাও তা ১০০ টাকা দর হাঁকাচ্ছে বিক্রেতারা।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ একাধিক বাজারে ৯৫ টাকা দরে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছিলেন খুচরা বিক্রেতারা। তবে ছোট ছোট মুদি দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বাজারে কেজি ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে যায়।
গেলো সপ্তাহের খবরে অবশ্য কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল ক্রেতাদের। ওই সময় লাগামহীন পেঁয়াজের বাজারে লাগাম টানতে দেখা যায়। গেলো সপ্তাহে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর তথ্য অনুযায়ী, এই দরও গেলো বছরের একই সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ ছিল।
অবশ্য তার আগে বাজারে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয় পেঁয়াজ।যা ছিল রেকর্ড।
শুক্রবার টিসিবির বাজার দর অনুযায়ী, এক কেজি দেশি পেঁয়াজের দর ছিল ৮০ থেকে ৯০ টাকা। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দর ছিল ৬৫ থেকে ৮৫ টাকা।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে দেশের বাজারে। তাছাড়া ঠিকমতো সরবরাহ না থাকায় পণ্যটির দর বাড়ছে।
যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া বাজারে কথা হয় খুচরা পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নাগনের সঙ্গে। তিনি বলেন, পেঁয়াজের বাজারে আবার অস্থিরতা বিরাজ করছে। ভারতে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ এখনো পুরোপুরি চালু না হওয়ায় এ অস্বাভাবিকতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি ভারতীয় পেঁয়াজ ৭০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। আর দেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন ৯৫ টাকা।

তবে শিগগির পণ্যটির দর কমে যাবে বলে মনে করেন তিনি। বলেন, দেশি পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। কদিন পর পুরোদমে পেঁয়াজ আসলে এমনি দাম কমে যাবে। তখন কম দামে মানুষ পেঁয়াজ কিনতে পারবেন।
ভারতে পেঁয়াজের অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধির প্রমাণ পাওয়া যায় দেশটির কিছু গণমাধ্যমেও।
ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের দাম। দুই বছরে এবারই সবচেয়ে দামি হয়েছে পেঁয়াজ। দেশের অধিকাংশ শহরের খুচরা বাজারগুলোতেই পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ রুপি দরে।

ওই সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, গত এপ্রিল-জুলাইতেই ১.২ মিলিয়ন টন পেঁয়াজ রপ্তানি করেছিল ভারত। ভারত থেকে রপ্তানি কম হলে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে পেঁয়াজের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দ্রব্যমূল্য মনিটরিং সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোরবানির ঈদের সময় বাড়তি প্রায় ২ লাখ টন সহ দেশে বছরে ২৪ লাখ টন পেঁয়াজের চাহিদা আছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ টন দেশেই উৎপাদিত হয়, বাকিটা মূলত ভারত থেকে আমদানি হয়।
কিন্তু ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সম্প্রতি অতিবৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যার কারণে পেঁয়াজের মূল্য অস্বাভাবিক হারে বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়।

তবে বাংলাদেশের ভোক্তা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অবশ্য মনে করেন না, শুধু আমদানি সঙ্কটের কারণেই দেশের বাজারে পণ্যটির দর বাড়ছে।
পেঁয়াজের অস্বাভাবিক বাজার সৃষ্টিতে ব্যবসায়ীদের হাত থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান আরটিভি অনলাইনকে জানান, দেশে প্রাকৃতিক সঙ্কটের কারণে আমদানি ঘাটতি থাকতে পারে। তার কারণে হয়তো একটু আধটু দাম বাড়বে। কিন্তু এতোটা মেনে নেয়া যায় না। এভাবে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি জিনিসের দাম বৃদ্ধি এখন জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠে যাচ্ছে।
ক্যাব সভাপতি বলেন, চালের বাজারে দাম বৃদ্ধির পর ব্যবসায়ীরা সাহস পেয়ে গেছেন। তারা মনে করছেন, নতুন কোনো পণ্যের দাম বাড়ালেও বাজার সয়ে যাবে। এজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নতুন করে কমিটি গঠন করা দরকার। তারা শুধু দর উঠানামার বিষয়টি লক্ষ্য রাখবেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একদিন অস্থির বাজার স্বাভাবিক করা সম্ভব নয়। এর জন্য সময় লাগবে। দেশে উৎপাদন বাড়াতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে সরকারকে ভর্তুকি ও ঋণ সহায়তা দিতে হবে। শুধু ভারতের উপরই পড়ে থাকলে হবে না। যতদিন এটা না করা যাবে, ততদিনই পণ্যটির বাজার অস্থির থাকবে।